কুরআনের আলোকে ঢেকে দেওয়ার শিল্প

 


কুরআনের আলোকে ঢেকে দেওয়ার শিল্প

শুরুটা ছিল স্বর্গময় সরলতায়।
একটি কিতাব নাযিল হয়েছিলো — একদম সোজা, পরিষ্কার, অন্ধকার ভেদ করে পরিস্ফুটিত আলোর মতো।
তার দাবি ছিল: “আল্লাহর কিতাব যথেষ্ট।”
তিরিশটি পারা নয়, ষাট হাজার বর্ণনা নয়, শত শত মাযহাব নয়, হাজার হাজার ফতোয়া নয়।
একটি নির্দিষ্ট বই। একটিই।

বইটি বলেছিল:
নিয়ন্ত্রণ করো না, ভয় দেখিও না, জোর করো না, দাম নাও না, ব্যাখ্যার রাজত্ব গড়ো না।
এই বই রাষ্ট্রকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল,
কারণ রাষ্ট্র জানে:
স্বাধীন মানুষকে শাসন করা অসম্ভব,
আর এই বই, এই কুরআন মানুষকে স্বাধীন বানিয়ে দেয়।
(এবং এখানেই ষড়যন্ত্রের বীজ রোপিত হলো।)

সম্মানিত ভাই,
কুরআন দ্বীনকে পারিবারিক সম্পত্তি হতে দেয়নি,
পুরোহিতের ব্যবসা হতে দেয়নি,
ফতোয়ার কারখানা হতে দেয়নি,
মাযহাবের পতাকায় ঝুলতে দেয়নি।

কুরআন বললো:
“আমার কোনো পুরোহিত নেই।”
বললো:
লাইকরাহা ফিদ্দীন
“দ্বীনে কোন জোর নেই।”
বললো:
“সকল মানুষ কোথাও না কোথাও আল্লাহর সামনে সমান।”
এটা শুধু ধর্মীয় নয়; এটা রাজনৈতিক অভিশাপ
কারণ শাসকচক্র কখনো সমতা পছন্দ করে না।
সমতা মানেই নিয়ন্ত্রণের মৃত্যু।

আর কুরআন সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল মধ্যস্থ বা পুরোহীত শ্রেণীর
যারা দাঁড়ায় আল্লাহ ও মানুষের মাঝখানে।

কুরআন যদি চলতো, তাহলে প্রয়োজন হতো না— পীর, শায়খ, মুফতি, মোল্লা, ফকিহ, ব্যাখ্যাকারী, শরীয়ত অফিসার, ফতোয়া ব্যাবসায়ী।

কুরআন চললে-
তাদের দরকার ছিল না, তাদের ক্ষমতাও থাকত না, তাদের আয়ও ছিল না।

সুতরাং প্রশ্ন ওঠে: এই শ্রেণী কি কুরআন মানবে?
না তারা কখনো কুরআন মানবেনা।
তারা কুরআনকে প্রতিস্থাপন করবে।

কুরআন ছিল যথেষ্ট এবং পরিপূর্ণ।
এটাই ছিল তাদের সমস্যা।

যদি কুরআন যথেষ্ট হয়, পরিপূর্ণ হয় তাহলে
ফতোয়ার দরকার নেই,
মাযহাবের দরকার নেই,
পুরোহিতের দরকার নেই,
ব্যাখ্যাকারীর দরকার নেই,
আইনে মধ্যস্থতার দালাল দরকার নেই।

এটাই তাদের জন্য  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ।
কারণ ধর্মীয় শ্রেণীযুদ্ধের প্রথম নিয়ম হল:

ধর্ম যত কম বলে, পুরোহিত তত বেকার।
ধর্ম যত বেশি বলে, পুরোহিতের তত বেশি চাকরি।

কুরআন খুব কম কথা বলে — কিন্তু মূল কথা বলে।
কুরআন নির্দেশ দেয় মৌলিক — আমল মানুষের।
এমন কুরআনি ধর্মে রাজনীতি চলে না।

সুতরাং “কুরআন যথেষ্ট নয়” এই কথা ছড়িয়ে দেয়া,
এই কথা প্রমাণ করা তাদের জন্য জরুরি হয়ে গেল।
এটাই হাদিসের জন্মের প্রথম সুত্র।

এখন শুরু হলো প্রথম অপারেশন:
কুরআনকে কঠিন হিসেবে ঘোষণা করো

এটার জন্য ব্যবহার হলো তিনটি কথার প্রচারঃ
প্রচারণা–১: “কুরআন সারগর্ভ, বিস্তারিত দেয় না”
প্রচারণা–২: “কুরআন বুঝতে গেলে অন্য কিতাব দরকার”
প্রচারণা–৩: “নবী ছাড়া কুরআন অচল”

এই তিনটি কথাই হল ষড়যন্ত্রের অস্ত্র।
কারণ এগুলো প্রতিষ্ঠা হলেই পরের ধাপ সহজ—
পরে ধাপ হল-
"কুরআনের পাশে নতুন গ্রন্থ বসাও"


এখন দরকার হলো কুরআনের যমজ
কিন্তু এমন যমজ হতে হবে যে দেখতে  রেহালে রাখা হলে কুরআনের সমান দেখায়।
শুনতে গেলে যেন কুরআনের মতই শোনায়,
মানুষের যেন পার্থক্য করার উপায় না থাকে।
সহজলভ্য ও ফজিলতে লোভনীয় কর।
প্রয়োজনবোধে বেশি বেশি মাদরাসা দিয়ে মুখস্থ করাও।
এই গ্রন্থের নাম হলো:
হাদিস

তুমি লক্ষ্য করবে — ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ধর্ম নিজের দ্বিতীয় গ্রন্থ তৈরি করলো
ইহুদিরা তাদের দ্বিতীয় গ্রন্থ তৈরি করেছিল “তালমুদ” নামে।
খ্রিস্টানরা “গসপেল” নামে।
ইসলামে একই কাজ হলো “হাদিস” নামে।

অবাক হওয়ার ব্যাপার হল—
তিনটিই “মৌখিক ব্যাখ্যা ছিল→তারপর লিখিত গ্রন্থ হল → এরপর এটাই আইন” এবং মডেল হল।
এটা কাকতালীয় না — এটা শাসনব্যবস্থার লজিক।

কারণ মানুষের ব্যাখ্যা সবসময় শাসকদের কাজে লাগে
আর আল্লাহর কিতাব সবসময় শাসকদের সুবিধা দেয়না।

এবার আনজাম দেয়া হল সবচেয়ে সুক্ষ্ম পরিকল্পনা-
কুরআন থাকবে — কিন্তু চালু থাকবে না
হাদিস আসবে — এবং চালু হবে। ছড়িয়ে পড়বে।
এই কৌশলকে ইতিহাসবিদরা বলে:
Functional Displacement
(কার্যকরী প্রতিস্থাপন)

উদাহরণ দেখো:
কুরআন বলল- সালাত কায়েম কর- এটা এপর্যন্তই থাকলো বন্ধ।
হাদিস শেখালো- কয় রাকাত, কোন দোয়ায়, কোন কায়দায়, কোন তাকবীরে, কোন হাতের অবস্থানে, এটা হলো চালু।
(ফল: কুরআন বন্ধ, হাদিস ব্যবহারযোগ্য)

এই জাদু যেভাবে কাজ করেছে— মানুষ বিশ্বাস করেছে:
কুরআন দিয়ে কিছু হয় না, আর হাদিস ছাড়া কিছু চলে না
এটাই ছিল ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এখন দরকার হলো সেই শ্রেণীর মানুষ যারা বলবে:
“আমাদের ছাড়া কুরআন বোঝা যাবে না।”
তাই সৃষ্টি হলো: ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফতি, শায়খুল ইসলাম, মাযহাব, ফতোয়া ইনস্টিটিউট, শরীয়ত আদালত।

এগুলো নবীর জীবনে ছিল না।
এগুলো কুরআনের যুগে ছিল না।
এগুলো শাসকদের যুগে জন্মেছে।
অর্থাৎ: কুরআন মানুষের দ্বীন ছিল,
আর হাদিস রাষ্ট্রের শরীয়ত হলো।

সম্মানিত ভাই,
হাদিস কোনো পবিত্র সমাহার ছিল না,
এটা ছিল ক্ষমতার প্রয়োজন,
এটা ছিল পুরোহিত শ্রেণীর অস্তিত্বের শর্ত,
এটা ছিল কুরআনের আলোকে আড়াল করার সেরা মাধ্যম

কারণ কুরআন যদি চলে, কুরআন যদি চালু থাকে,
তাহলে মধ্যস্থ ব্রোকার শ্রেণীর ভাত হবেনা।
আর হাদিস যদি না আসতো,
মাযহাব জন্মাতো না।
আর মাযহাব না থাকলে,
রাজনৈতিক ধর্ম তৈরী হতো না।

তাই হাদিস এসেছে — দ্বীন রক্ষার জন্য নয়,
বরং দ্বীন দখলের জন্য
কুরআনকে অস্বীকার করে নয় —
বরং কুরআনকে অচল রেখে
আর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো —
মানুষ অচল কুরআনকে সম্মান করলো,
এবং চলমান হাদিসকে মান্য করলো।

প্রথমে ছিল এক কণ্ঠ: কুরআন
একটি গ্রন্থ,একটি আইন, একটি ভাষণ,একটি সত্য।
কিন্তু নবী চলে গেলেন,
আর সেই একটি কণ্ঠকে টেনে ধরতে ধরতে নতুন কণ্ঠরা উঠল।
সাহাবি, তাবেই, ফুকাহা, মুফতি, কাসাস, কাহান…
বর্ণনা বাড়তে লাগল, স্মৃতি বাড়তে লাগল, ব্যাখ্যা বাড়তে লাগল—
এবং সবচেয়ে ভয়ংকর: দাবি বাড়তে লাগল।

প্রথমে বলা হলো:
“নবীও কিতাব ছাড়াও কথা বলেছেন।”
তারপর বলা হলো: “কিতাব ছাড়া যে কথা বলেছেন সেটাও ধর্ম।”
তারপর বলা হলো: “ওই কথাও আইন।”
শেষে বলা হল - সেটাই আসল বিধান।
আর আইন যেখানে থাকে, সেখানে কুরআনকে পাশ কাটানোই রাজনীতি।

সম্মানিত ভাই,
এই পুরো বিষয়টার শুরু হয়েছিল একটা খুব চতুর বাক্য থেকে:
“রাসূলকে মানা মানে আল্লাহকে মানা।”
এই কথা শুনতে ভালো, সুন্দর, কোমল — এবং বিরোধ করার মতোও নয়।
কিন্তু সমস্যাটা হলো — কুরআন এভাবে বলেনি।
কুরআনে ছিল:
“আল্লাহকে মানো, আর রাসূলকে মানো।”

এখানে দেখা যায়:
দুইটা আদেশ
দুইবার ‘মানো’ বলা হয়েছে
কিন্তু উৎস একই — আর সেটা হলো ওহি/কুরআন
কুরআন বারবার বলেছে:
এই কুরআন
কুরআনের মাধ্যমে
যা তোমার প্রতি ওহি করা হলো
যা তাদের প্রতি নাযিল করা হলো
মানে, রাসূলের নির্দেশও কুরআনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এখন সমস্যার জায়গা হলো এখানে:
যখন বলা হলো —
“রাসূলকে মানা মানে আল্লাহকে মানা”, তখন ধীরে ধীরে মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হলো যে:
রাসূল কুরআনের বাইরে থেকেও কথা বলতেন
আর সেই কথাও বিধান হয়ে যায়
এখানেই তৈরি হলো দুই উৎস:
১) কুরআন = আল্লাহর বাণী
২) রাসূলের বলা কথা = পরে “হাদিস”
এটাই ছিল প্রথম দরজা, যেখান থেকে পুরো খেলা শুরু হলো।
কারণ এর আগে একটাই উৎস ছিল = কুরআন।
এই বাক্য ব্যবহার করে মানুষকে বোঝানো হলো:
“রাসূল যাই বলবেন — সবই মানতে হবে।”
এবং এই বাক্য ব্যবহার করে পরে বলা সহজ হলো:
“হাদিসও রাসূলের কথা, তাই এটা মানা ফরজ।”
এভাবেই শুরু হলো হাদিসকে দ্বিতীয় উৎস বানানোর পথ।
এই ঘটনাটাই ছিল মূল টার্নিং পয়েন্ট।

এখন রাজনীতি বলল:
“কুরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য”
“আইন হবে রাসূলের কথায়”
এটাই প্রথম আঘাত।

কুরআনে আইন কম নয় — হত্যা, চুরি, মিথ্যা, পরিবার, বিবাহ, তালাক, ব্যবসা, উত্তরাধিকার—সবই আছে।
কিন্তু তা ছিল সংক্ষিপ্ত ও সর্বজনীন।
এটা শাসকদের সমস্যা হয়ে গেল।
সুবিধা কোথায়?

কুরআনের আইন স্থির — পরিবর্তিত হয় না
হাদিসের আইন পরিবর্তনযোগ্য —  কিয়াস, ফতোয়া, মতবাদে ঘুরে যায়।
রাজনীতি তাই কুরআনকে বলল:
তুমি যাও তাকের ওপরে, আমরা আইন করব হাদিস দিয়ে”

এভাবে জন্ম নিল: ফিকহ, মাজহাব, কাসাস, ক্বানুন।

এবং শেষে কুরআনকে ঘোষণা করা হলো:
“সূরা ইয়াসিন—মৃতদের জন্য”
আর হাদিসকে ঘোষণা করা হলো:
“ফতোয়ার জন্য”

এটা ছিল দ্বিতীয় আঘাত।

সম্মানিত ভাই,
প্রথম শতকে হাদিস লেখা নিষিদ্ধ ছিলো
দ্বিতীয় শতকে লেখা বাধ্যতামূলক হল

এটা কি এমনি এমনি? না — এটা একটা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা।

প্রথম স্থিতি — হাদিস লিখা নিষেধ থাকলো (সাহাবিদের যুগে)

কারণ তখন কুরআন ছিল নিরঙ্কুশ উৎস
আর কেউ চায়নি ধর্মের দুটো উৎস হোক,
কোন সাহাবি চাননি হাদিসো পাশাপাশি দাঁড়াক
নবী ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন:
এই ধর্মে কোনো গ্রন্থ থাকবে না কুরআন ছাড়া।”

এই লাইনটাই ছিল ষড়যন্ত্রীকারীদের দুঃস্বপ্ন।

দ্বিতীয় স্থিতি — হাদিস লিখার অনুমতি পেলো (উমাইয়া যুগে)
এখন ক্ষমতা বলল: “লেখো, সংগ্রহ করো, মজুদ করো।”
এবং এই সংগ্রহ ছিল রাজাকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বসরায়, কুফায়, দামেস্কে, মিশরে, মদিনায় —
চলল মৌখিক কথাকে → কিতাব বানানোর অভিযান।
এখন কাহিনী শুধু স্মৃতি নয় — এখন কাহিনি হয়ে গেলো আইন

বন্ধুগন!
ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমেই বুঝেছিল:
ধর্ম টিকে থাকে ইবাদতে।
সুতরাং নিয়ন্ত্রণও দিতে হবে ইবাদতের উৎসে।
কুরআন ইবাদতকে রেখেছিল আইন হিসেবে।
তারা ইবাদতকে বানালো অনুষ্ঠান।
সালাত ছিল কুরআনে পরিষ্কার — সময়, দিক, রুকু, সিজদা, সংক্ষেপ, পরিচ্ছন্নতা।
তারা বলল: “না, যথেষ্ট নয়।”
নবী যেমন করতেন — আমাদের থেকে শিখো।”
ফল: সালাত = হাদিস জানা,
কুরআন = স্লোগান মাত্র।

সিয়ামও একইভাবে বদল হলো।
কুরআন বলেছিল: নির্দিষ্ট দিন + ছাড় + বদলি।
তারা যোগ করল: সেহরি, ইফতার, দোয়া, পুরস্কার, শয়তান, তারাবী — ইভেন্টে পরিণত হলো।
শয়তানকে বেধে রাখলো শিকলে,
বললো- ১ মাস বান্ধা থাক তোমার বদলে আমরাই আছি।

হজও কুরআনে স্পষ্ট ছিল — সময়, আচরণ, নিরাপত্তা।
তারা বলল: “বিস্তারিত ছাড়া হজ অসম্পূর্ণ।”
বিস্তারিত মানে? কুরআন নয় — রাষ্ট্র অনুমোদিত হাদিস।

তারপর আইনেও একই কাজ।
উত্তরাধিকার কুরআনে ছিল নির্দিষ্ট।
ফিকহ এটাকে বানালো হিসাব-জট।
চুরির শাস্তি কুরআনে ছিল প্রযোজ্য।
ফিকহ এটাকে করল অপ্রয়োগযোগ্য।
রক্ত-মূল্য কুরআনে ছিল সমান।
ফিকহ এটাকে করল গোত্রভিত্তিক।
শেষে ফল দাঁড়ালো:
ইবাদত হাদিসের হাতে
আইন ফিকহের হাতে
আর কুরআন রেখে দিলে তাকের ওপরে।
ধর্ম বদলানো হয়নি —
উৎস বদলে দেয়া হয়েছে।

আরেকটি বড় আঘাত হল — “কুরআন বোঝা যাবে না” এই কথার প্রচার।
এটা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।
যখন কুরআন সরাসরি পড়া বিপজ্জনক হয়ে গেল রাজনীতির জন্য, তখন প্রচারণা চালানো হলো:

“কুরআন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না”
“কুরআন বোঝার জন্য আরবি দরকার”
“আরবি জানলেও বুঝতে পারবে না”
“বুঝলে মুফতির কাছে নিয়ে যাচাই করো”
“ফতোয়া ছাড়া কিছু বোলো না”
“কুরআন ব্যাখ্যা ছাড়া হারাম”
“ব্যাখ্যা = হাদিস”
এটা ছিল ষড়যন্ত্রের শেষ ধাপ।

ষড়যন্ত্রকারীরা কাজটা খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে করেছিল।
তারা কুরআনকে সরাসরি বাতিল করেনি —
তারা কুরআনকে ব্যবহারহীন করে রেখেছে।
এখন কুরআনের কাজ হলো:
তেলাওয়াত করা, তাকে রাখা, বাক্স বন্দি করা, পুরস্কার পাওয়া, তাবিজ দেওয়া।
আর ধর্মের কাজ-কর্ম চলে হাদিস ও ফিকহ দিয়ে।
দেখো জীবনের কাঠামো কিভাবে সাজানো হলো:
জন্ম, মৃত্যু,  সালাত, সিয়াম, হজ,  মসজিদ, 
আদালত,  মুফতি, মাদরাসা। সবকিছুতেই চালানো হল হাদিস।

কুরআন থেকে আর শিখানো হয় না,
কুরআন দিয়ে আর আইন হয় না,
কুরআন দিয়ে আর বিচার হয় না,
কুরআন দিয়ে আর ইবাদত গড়া হয় না।
ইবাদত গেছে হাদিসের হাতে,
আইন গেছে ফিকহের হাতে,
রাষ্ট্র গেছে উলামা-মাজহাবের হাতে,
আর কুরআন চলে গেছে তাকের ওপরে।

এটাই ছিল ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত ফলাফল।
ধর্মকে বদলানো হয়নি —
ধর্মের উৎস বদলে দেয়া হয়েছে।
যখন এই নির্মাণ সম্পন্ন হলো, তখন ঘোষণা দেয়া হলো:
“ধর্ম এখন প্রতিষ্ঠিত।”

আসলে কি ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?  না। ধর্ম প্রতি স্থাপিত হয়েছে।
ধর্ম প্রতিষ্ঠা মানে কুরআনকে সক্রিয় করা
আর প্রতিস্থাপন মানে কুরআনকে মার্কা বানানো

ষড়যন্ত্রের মূল স্লোগান ছিল:
“কুরআন আমাদের ধর্ম নয়— কুরআন আমাদের মার্কা”
আর প্রতীক কখনো বিপ্লব আনে না
আইন আনে না
প্রশ্ন আনে না
জবাবও আনে না।

যখন মানুষ বুঝতে শুরু করল, তখন স্থাপন করা হলো ভয়ের রাজনীতি।
“কুরআনকে আইন বানাতে চাইলে—ফিতনা”
“হাদিস নিয়ে প্রশ্ন করলে—গোমরাহ”
“ফিকাহ ছাড়তে চাইলে—বিদআত”
“মাজহাবের বাইরে গেলে—বিপথগামী”
“কুরআনকে যথেষ্ট বললে—মুনকারে-হাদিস”
কুরআনকে পুর্ণ বললে- আহলে কোরআন, পথভ্রষ্ট,  কাফের।

এটা ছিল শেষ তালা।
এবং তালার ওপরে লেখা হলো:
“কুরআন যথেষ্ট নয়”

কুরআন যথেষ্ট নয়, এই তালা খুলতে চাইলে তোমাকে বিদ্রোহী হতে হবে। কুরআন হাতে নিতে হবে। পড়তে হবে।
জবাব দিতে হবে।
“কুরআন যথেষ্ট নয়?”
তাহলে আল্লাহ কেন বললেন—
“مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ”
আমরা এই কিতাবে কিছুই বাদ দেইনি!

কেন বললেন—
“تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ”
— সব কিছুর স্পষ্ট ব্যাখ্যা

কেন বললেন—
ব্যাখ্যাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট!

ধর্ম কি এত জটিল?
না — ধর্মকে জটিল করে রাখাই ছিল ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত বিজয়।

সম্মানিত ভাই,
কুরআনকে ঠাই দেয়া নয়, সিংহাসনে  বসাতে হবে
আজ মুসলিম জগৎ কুরআনকে সম্মান দেয়,
কিন্তু ক্ষমতা দেয় না
সম্মান দেওয়া সহজ —
ক্ষমতা দেওয়া কঠিন।

সম্মান দেওয়ার ফল:
✔ তাকের ওপর রাখা
✔ চুমু দেওয়া
✔ কাভার লাগানো
✔ রেশমে মুড়িয়ে রাখা
✔ তেলাওয়াতের ভিডিও বানানো
✔ মৃত্যুতে পড়া

কিন্তু ক্ষমতা দিলে ফল হয়:
✦ আইন পরিবর্তন
✦ সমাজ পরিবর্তন
✦ বিচার পরিবর্তন
✦ রাজনীতি পরিবর্তন
✦ ইবাদত পরিবর্তন
✦ নৈতিকতা পরিবর্তন
আর সতর্ক হও—
যারা কুরআনকে সম্মান দিতে বলে,
তারা সাধারণত কুরআনকে ক্ষমতা দিতে ভয় পায়।
সুতারাং কুরআনে ফিরতে হবে
কুরআনের বন্ধু হতে হবে
তোমার হাতে যতটুকু সময় আছে কুরআনে দাও
তোমার কাছে যতটুকু উদৃত্ব অর্থ আছে কুরআনে দাও
তোমার কাছে যতটুকু শক্তি আছে কুরআনে দাও।

আজ এ পর্যন্তই, 
আবার দেখা হবে অন্য ভিডিওতে
ধন্যবাদ সবাইকে 

Post a Comment

0 Comments

শিয়া সুন্নিদের হাদিস কতগুলো

কুরআনের আলোকে ঢেকে দেওয়ার শিল্প
Chat with us on WhatsApp