প্রশ্নের মুখে "সিয়াম" পর্ব ১

 প্রশ্নের মুখে "সিয়াম" পর্ব-১

আজ আমি কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে আসিনি,
কোনো মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার তুলতে আসিনি,
আমি এসেছি শান্ত কণ্ঠে সত্য বলার জন্য,
কারণ আমি বিশ্বাস করি সত্য চিৎকার করে না,
সত্য নিজেই দাঁড়িয়ে থাকে,
আর মানুষ যদি চোখ খুলে তাকায়,
দলমত ও পুর্ব ধারণাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে,  তাহলে সত্য দেখতে পায়।

আমাদের সমাজে সিয়াম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অনেকেই ভয় পায়,
কেউ কেউ রেগে যায়,
কেউ আবার প্রশ্নকারীকেই কাফের বানিয়ে দেয়,
কিন্তু আমি বলি যে বিশ্বাস প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না,
সে বিশ্বাস আসলে নিজের ওপরই আস্থা রাখে না,
আর কুরআনের ওপর যে আস্থা রাখে,
সে প্রশ্নকে ভয় পায় না।

বন্ধুগণ!
আজ আমি তোমাদের সামনে ১২ টি প্রশ্নের মধ্যে,
৬ টির আলোচনা করবো। বাকি ৬ টি অন্য আরেকটি পর্বে ইনশাআল্লাহ।
আমার আলোচনার কোন মুল্য নাই,
যদি তা কুরআনের সাথে না মিলে,
আমরা আলোচনা করতে পারি, পর্যালোচনা করতে পারি
কিন্তু চুরান্ত সত্য আল্লাহর কিতাব।
আমার আলোচনার উদ্দেশ্য চুরান্ত সিদ্ধান্ত নয়,
আমার আলোচনার উদ্দেশ্য হলো তোমাদের
বিবেক ও জ্ঞানকে জাগিয়ে তোলা,
তোমাদের ভাবিয়ে তুলতে সাহায্য করা,
চল আমরা  এক এক করে ধারাবাহিক ভাবে
সবগুলো প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করি।

প্রথমেই আমরা প্রশ্নগুলো জেনে রাখি,
তারপর আলোচনায় প্রবেশ করি-

প্রশ্নঃ ১। কুরআনে কি সত্যিই সিয়ামের দিনসংখ্যা স্পষ্টভাবে বলা আছে?”
প্রশ্নঃ-২ এত কষ্টের রোজাকে কুরআন কেন বলে অল্প কয়েকদিন?”
“প্রশ্নঃ-৩ পূর্ববর্তী উম্মতরা কি একইভাবে রোজা রাখত?”
প্রশ্নঃ-৪ “সিয়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়?”
প্রশ্নঃ ৫। “নারী, গর্ভবতী, দুগ্ধদানকারী—সবার জন্য কি একই সিয়াম?”
প্রশ্ন- ৬। যেসব দেশে দিন খুব লম্বা, সেখানে সিয়াম কি অন্যায় নয়?”

এবার চল আমাদের প্রথম প্রশ্নটি হল-
প্রশ্নঃ ১। কুরআনে কি সত্যিই সিয়ামের দিনসংখ্যা স্পষ্টভাবে বলা আছে?”

এই প্রশ্নটা শুনতে খুব সাধারণ মনে হয়,
কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক গভীর অভিযোগ,
আর সেই অভিযোগটা হলো—কুরআন নাকি অসম্পূর্ণ, কুরআন নাকি অস্পষ্ট,
কুরআন নাকি মানুষের জীবনের মতো বড় বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলে না,
আর আমি চাই এই অভিযোগের মুখোমুখি দাড়িয়ে সত্য প্রকাস করতে।

সূরা আল-বাকারার ১৮৩ যখন বলে,
তোমাদের ওপর সিয়াম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে,
লিখে দেয়া হয়েছে,

বন্ধুগণ!
এই লিখে দেওয়া মানে গুরুত্বহীন নয়,
বরং অনেক বেশি গুরুত্ব বোঝায়, যা লঙ্ঘন করা যায়না।
তুমি যদি কারো কাছে একটুকরো জমি ক্রয় কর,
জমি দাতা যদি শুধু বলে দেয় যে,
আজ থেকে এই জমির মালিক তুমি,
তুমি কি সন্তুষ্ট হতে পারবে?
না। যতক্ষন লিপিবদ্ধ করে না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারবেনা।
লিখে দিলেই শান্তি পাবে,  নতুবা নয়।

বন্ধুগণ!
সিয়াম আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন,
এটা ফরজ নয়, বরং ফরজের চেয়েও বড় কিছু,
এটাকে পাস কাটানোর কোন সুযোগ নেই।

বন্ধুগণ!
লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি,
কুরআন এতটুকু বলেই থেমে যায়নি,
বরং পরের আয়াতে ১৮৪ তে বলে দিয়েছে,
"আইয়ামাম মা'দুদাতিন'  নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন,
আর এখানেই যারা তাড়াহুড়ো করে তারা বলে বসে—কয়দিন,
কিন্তু বাবা একটু ধৈর্য ধর, সব কিছু পাবে একটু পরেই।
কুরআন কখনো তাড়াহুড়ো করে পড়ার বই নয়,
কুরআন ধৈর্য নিয়ে সামনে এগোনোর কিতাব।

বন্ধুগণ!
ঠিক পরের আয়াতে ১৮৫ তে কুরআন বলে দেয় রমজান মাস,
যে মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে,
"শাহরু রমাজানাল্লাযি উংঝিলা ফিহিল কুরআন"
অর্থাৎ আগের আয়াতে যে নির্দিষ্ট দিনগুলোর কথা বলা হয়েছিল,
সেই দিনগুলো কোনো অজানা সময় নয়,
কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়,
বরং একটি পরিচিত প্রাকৃতিক সময়—রমজান মাস।
অনেকেই প্রশ্ন করে কেন কুরআন ২৯ বা ৩০ দিন বলে দিল না?

বন্ধুগণ!
এখানেই আমাদের বুঝতে হবে কুরআনের ভাষা হল প্রকৃতির ভাষা,
কুরআন ক্যালেন্ডার ছাপার বই নয়,
কুরআন আকাশের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলে,
আর চাঁদের মাস কখনো ২৯, কখনো ৩০ হয় বলেই
কুরআন সংখ্যার জায়গায় সময়কে বেছে নিয়েছে।

যদি কুরআন নির্দিষ্ট সংখ্যা বলত,
তাহলে প্রকৃতির এক বছরকে মিথ্যা বানাতে হতো,
আর আল্লাহ এমন কিতাব নাজিল করেননি যা প্রকৃতির সঙ্গে সংঘর্ষে যায়,
বরং তিনি এমন কিতাব দিয়েছেন যা আকাশ,
সময় আর মানুষের জীবনের সঙ্গে একসাথে চলে।
তাই সমস্যাটা কুরআনের নয়,
সমস্যাটা আমাদের পড়ার ভঙ্গিতে,
আমরা আয়াত আলাদা করি কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখি না,
আমরা শব্দ ধরি কিন্তু উদ্দেশ্য ধরি না।

বন্ধুগণ!
একটি কথা না বললেই নয়,
কেন তুমি কুরআনকে ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা করছ?
কুরআন কারো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়,
কুরআন নিজেই নিজের ব্যাক্ষা দিয়েছে।
তুমি অসুস্থ হলে দিন গুনে রাখ,
সফরে থাকলে দিন গুনে রাখ,
তুমি অক্ষম হলে ফিদিয়া দাও,
তোমার জন্য আল্লাহ সহজ করেছেন,
তুমি বিধান না মানলে কেউ তোমাকে বাধ্য করবেনা,
তোমার হিসাব তুমি দিবে, আর আমার হিসাব আমি দিব
তুমি পারনা এটা তোমার অযোগ্যতা,
তাই বলে তুমি সিয়ামকে অসীকার করতে পারনা,
স্পষ্ট আয়াতগুলো অমান্য করতে পারনা।

বন্ধুগণ!
চলো, আমরা পরের প্রশ্নে প্রবেশ করি।
প্রশ্নঃ-২ এত কষ্টের রোজাকে কুরআন কেন বলে অল্প কয়েকদিন?”

এই প্রশ্নটা শুধু শরীর থেকে আসে না,
এই প্রশ্নটা আসে ক্লান্ত মন থেকে,
গরমে শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট থেকে,
কাজের চাপে নুয়ে পড়া শ্রমিকের বুক থেকে,
আর তাই এই প্রশ্নকে অবহেলা করা পাপ।
কুরআন যখন বলে অল্প কয়েকদিন,
তখন সে আমাদের কষ্টকে অস্বীকার করে না,
সে কেবল তুলনার ভাষায় কথা বলে,
কারণ ত্রিশ দিন পুরো বছরের পাশে দাঁড়ালে সত্যিই অল্প,
আর এই দুনিয়ার পুরো জীবন আখিরাতের পাশে দাঁড়ালে আরও অল্প।

কুরআনের দৃষ্টিতে অল্প মানে তুচ্ছ নয়,
অল্প মানে সহনীয়, অল্প মানে সীমিত,
অল্প মানে এমন কিছু যা মানুষের সাধ্যের ভেতরে রাখা হয়েছে।
এই জন্যই কুরআন একই সাথে ঘোষণা করে যে আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, কঠিন চান না,
আর এই ঘোষণার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসুস্থের জন্য ছাড়, ভ্রমণকারীর জন্য ছাড়, অক্ষমের জন্য বিকল্প।

বন্ধুগণ!
সিয়াম কোনো আত্মনির্যাতন নয়,
সিয়াম কোনো মানবতা বিরোধী শাস্তি নয়,
সিয়াম হলো নিজের ইচ্ছার লাগাম ধরা,
নিজের প্রবৃত্তিকে,  নিজের নাফসে শিকল পড়ানো,
আর যে মানুষ নিজের ইচ্ছাকে শাসন করতে পারে না,
নিজের নাফসকে আটকাতে পারেনা,
সে মানুষতো দুনিয়ার গোলাম, সবচেয়ে বড় দাস।
বিদ্রোহ এখানে না খাওয়ার বিরুদ্ধে নয়,
বিদ্রোহ এখানে লোভের বিরুদ্ধে,
অভ্যাসের বিরুদ্ধে, সীমাহীন ভোগের বিরুদ্ধে,
আর এই বিদ্রোহ শান্ত বলেই শক্তিশালী।
চলো এবার পরের প্রশ্নে চলে যাই,

“প্রশ্নঃ-৩ পূর্ববর্তী উম্মতরা কি একইভাবে রোজা রাখত?”

অনেকেই এই প্রশ্ন করে যেন প্রমাণ করতে চায় যে সিয়াম নতুন কিছু নয় বা পুরোনো কিছু নয়,
কিন্তু কুরআনের বক্তব্য এখানে খুব পরিমিত এবং স্পষ্ট,
কুরআন বলে উদ্দেশ্য একটাই ছিল,
পদ্ধতি এক ছিল না।
কুরআন নিজেই দেখায় যে মারইয়াম আঃ সিয়াম পালন করেছিলেন নীরবতার মাধ্যমে,
যা আমাদের সিয়ামের মতো নয়,
আবার মূসা আঃ নির্দিষ্ট সময় লোকালয় ত্যাগের সংযমে ছিলেন
যা ছিল ভিন্ন উপলক্ষের জন্য,
ফলে স্পষ্ট হয় যে সিয়াম মানে শুধু না খাওয়া নয়,
সিয়াম মানে নিজেকে সংযমে রাখা।

ধর্ম কোনো স্থির পাথর নয়, ধর্ম নদীর মতো বহমান,
যার উৎস একটাই, কিন্তু পথ বদলায়, সময় বদলায়,
মানুষের অবস্থা বদলায়,
আর আল্লাহ প্রতিটি জাতিকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী বিধান দিয়েছেন।
তাই পূর্ববর্তী উম্মতদের সঙ্গে মিল খোঁজার নামে বর্তমান বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়,
বরং এটি আল্লাহর প্রজ্ঞাকে না বোঝার ফল।

প্রশ্নঃ-৪ “সিয়াম কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়?”

এই প্রশ্নটা আজকের দুনিয়ায় খুব স্বাভাবিক,
কারণ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে খাওয়া মানেই শক্তি,
খাওয়া মানেই সুস্থতা, আর না খাওয়া মানেই দুর্বলতা,
অথচ মানুষ খুব কমই ভাবে যে শরীর শুধু খাবারেই বাঁচে না,
শরীর নিয়মেও বাঁচে, সংযমেও বাঁচে, বিরতিতেও বাঁচে।
কুরআন যখন সংযম ফরজ করেছে,
তখন সে মানুষকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়নি,
বরং একই সাথে ঘোষণা করেছে যে
আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, কঠিন চান না,
অর্থাৎ সংযম এমন কোনো বিধান নয়,
যা মানুষের স্বাভাবিক জীবন ভেঙে দেয়,
বরং এমন এক অনুশীলন যা মানুষের ভেতরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

যদি সংযম সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ধ্বংসাত্মক হতো,
তাহলে কুরআন প্রথমেই অসুস্থ মানুষকে ছাড় দিত না, ভ্রমণকারীকে ছাড় দিত না,
দুর্বলকে বিকল্প দিত না,
কারণ যে কিতাব মানুষের স্রষ্টার কাছ থেকে এসেছে,
সে কিতাব মানুষের শরীর সম্পর্কে অজ্ঞ হতে পারে না।
বাস্তবতা হলো সংযম সবাইকে এক পাল্লায় মাপে না,
যে সক্ষম সে পালন করে,
যে অক্ষম সে পরে আদায় করে,
আর যে স্থায়ীভাবে অক্ষম সে অন্যকে খাওয়ানোর মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করে,
অর্থাৎ এখানে কোনো জোর নেই,
কোনো অমানবিকতা নেই, আছে বিবেচনা।

আমরা অনেক সময় দেখি
কেউ কেউ সিয়াম রেখে অসুস্থ হয়ে পড়ে,
কিন্তু আমরা খুব কমই দেখি
সে মানুষটা কীভাবে সিয়াম রাখছে,
সে কি সাহরি খাচ্ছে,
সে কি ইতমামে সংযম করছে,
নাকি সিয়ামকে দায়ী করছে নিজের অবহেলার জন্য।
সিয়াম শরীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নয়,
সিয়াম শরীরকে শোনার শিক্ষা,
কারণ সারাবছর শরীর বলে খাও, খাও, খাও,
আর সিয়াম এসে বলে থামো, একটু থামো,
দেখো তোমার শরীর আসলে কতটুকু চায়।

তাই সমস্যা সংযমে নয়, সমস্যা আমাদের জীবনযাপনে,
সিয়াম একটি আয়না, কেউ সেখানে স্বাস্থ্য দেখে,
কেউ সেখানে নিজের ব্যাবস্থাপনা দেখে।

প্রশ্নঃ ৫। “নারী, গর্ভবতী, দুগ্ধদানকারী—সবার জন্য কি একই সিয়াম?”

এই প্রশ্নটা অনেক সময় খুব আবেগ নিয়ে আসে,
বিশেষ করে যখন কেউ বলে ইসলাম নাকি নারীর প্রতি কঠোর,
ইসলাম নাকি একই আইন সবার ওপর চাপিয়ে দেয়,
চলুন আমরা এই প্রশ্নটা আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে দেখি।
কুরআন কোথাও বলেনি যে নারী মানেই দুর্বল,
আবার কুরআন কোথাও বলেনি যে নারী মানেই অগ্রাহ্য,
বরং কুরআন বলেছে দায়িত্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল,
আর এই নীতিটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য।

গর্ভবতী নারী যখন নিজের শরীরের ভেতর,
আরেকটি জীবন বহন করে,
তখন সে একা থাকে না,
তখন তার সিদ্ধান্তে দুজনের জীবন জড়িত থাকে,
আর এই বাস্তবতা ইসলাম উপেক্ষা করেনি,
বরং সেখানে ছাড় দিয়েছে, সময় দিয়েছে, বিকল্প দিয়েছে।
দুগ্ধদানকারী মা যখন সন্তানের জন্য নিজের শরীর থেকে পুষ্টি দেয়,
তখন সে শুধু নিজের কথা ভাবে না,
তখন সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবে,
আর ইসলাম এই ত্যাগকে বোঝে বলেই তাকে জোর করে না,
বরং সুযোগ দেয়।

এখানে লক্ষ্য করুন, ছাড় মানে অবহেলা নয়,
ছাড় মানে অবমাননা নয়, ছাড় মানে দায়িত্ব মুছে ফেলা নয়, ছাড় মানে দায়িত্বকে মানবিকভাবে সরিয়ে নেওয়া।
যারা বলে নারীকে কঠিন নিয়মে বেঁধে ফেলা হয়েছে,
তারা হয় কুরআন পড়েনি,
নয়তো কুরআনের এই অংশগুলো এড়িয়ে গেছে,
কারণ ইসলাম কোনো অবস্থাতেই শরীরকে ভাঙার আদেশ দেয় না।
বিদ্রোহ এখানে এই ধারণার বিরুদ্ধে,
যে ধর্ম মানেই কঠোরতা,
বরং সত্য হলো ধর্ম মানেই ভারসাম্য,
আর এই ভারসাম্যই নারীকে সম্মান দেয়।

প্রশ্ন- ৬। যেসব দেশে দিন খুব লম্বা, সেখানে সিয়াম কি অন্যায় নয়?”

এই প্রশ্নটা আধুনিক বিশ্বের প্রশ্ন,
মানচিত্রের প্রশ্ন, মানে ভূগোলের প্রশ্ন,
এবং অনেকেই এই প্রশ্ন তুলে বলতে চায় যে সিয়াম নাকি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য বানানো নিয়ম।
প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে,
কুরআন কোনো এক দেশের জন্য নামেনি,
কোনো এক জলবায়ুর জন্য নামেনি,
কুরআন এসেছে মানুষের জন্য,
আর মানুষ সব জায়গায় একরকম থাকে না।

বন্ধুগণ!
কুরআন যখন সময় নির্ধারণ করে,
তখন সে সূর্য আর রাতের কথা বলে,
কিন্তু একই সাথে সে নীতি দেয় যে আল্লাহ কষ্ট চান না,
আর এই নীতিটাই কঠিন পরিস্থিতিতে পথ দেখায়।
যেখানে দিন খুব লম্বা,
সেখানে সংযম পালন যদি
শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যায়,
তাহলে সেখানে সময়ের হিসাব মানবিকভাবে নির্ধারণ করা ইসলাম বিরুদ্ধ নয়,
বরং ইসলামের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলাম কখনো বলেনি যে তুমি মরলেও নিয়ম ছাড়বে না,
ইসলাম বলেছে জীবন রক্ষা করো,
কারণ জীবন আল্লাহর আমানত।
যারা এই প্রশ্ন তুলে ইসলামকে নিষ্ঠুর প্রমাণ করতে চায়,
তারা আসলে ইসলামের মূলনীতি না বুঝেই
তার শাখা ধরে টান দেয়।
বিদ্রোহ এখানে অন্ধ অনুসরণের বিরুদ্ধে,
বিদ্রোহ এখানে সেই চিন্তার বিরুদ্ধে
যে ধর্ম মানেই বাস্তবতা অস্বীকার করা,
অথচ সত্য হলো ইসলাম বাস্তবতার ভেতর দিয়েই পথ দেখায়।

Post a Comment

0 Comments

শিয়া সুন্নিদের হাদিস কতগুলো

প্রশ্নের মুখে "সিয়াম" পর্ব ১
Chat with us on WhatsApp